হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ
কোরআনের আলোকে ইরানী ইসলামী বিপ্লব ও পরাশক্তির পরাজয় প্রসঙ্গে একটি আলোচনা৷ ইতিহাস সাক্ষী—যে বিপ্লব মুনাফেককে চিনতে শিখে যায়, তাকে আর বাইরের কাফের শক্তি সহজে পরাজিত করতে পারে না। ইরানী ইসলামী বিপ্লব সেই বিরল বাস্তবতা, যা একই সময়ে দুই ভিন্ন মুখোশধারী মুনাফেকের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে, বিজয়ী হয়েছে, এবং ক্রমাগত শক্তিশালী হয়েছে। সেই দুই মেরুর মুনাফেক হলোঃ
(১) শিয়া-মুনাফেক শাহ রেযা পাহলভি বাদসা৷
(২) সুন্নী-মুনাফেক সাদ্দাম হসেন বাদসা৷
কোরআন আমাদের সতর্ক করেছে— “নিশ্চয়ই মুনাফেকরা আগুনের সবচেয়ে নীচের স্তরে থাকবে।” (সূরা নিসা: ১৪৫)
কারণ, কাফের শত্রু প্রকাশ্য, কিন্তু মুনাফেক ভেতর থেকে আঘাত করে।
(১) প্রথম লড়াই: শিয়া নামধারী মুনাফেক—শাহ পাহলভি'র বিরুদ্ধে ইরানী বিপ্লবের প্রথম শত্রু ছিল বাইরের নয়, ভেতরের সিংহাসনে বসা এক মুনাফেক শাসক—শাহ রেযা পাহলভি। নামমাত্র শিয়া পরিচয় বহন করলেও, বাস্তবে সে ছিল— জায়োনবাদী চিন্তার সরাসরিাআমেরিকার গোলাম, বরং রেযা পাহলভি ছিলেন জায়নবাদী স্বার্থের পাহারাদার,অইসলামি শরিয়াহ ও উলামাদের শত্রু৷
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন বলে— “তারা বলে, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি, অথচ তারা মুমিন নয়।” (সূরা বাকারা: ৮)
এই আয়াত শাহ পাহলভির শাসনের ওপর হুবহু প্রযোজ্য। ইসলামের নাম ব্যবহার করে ইসলামকেই সে বিক্রি করেছিল। কিন্তু যখন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর নেতৃত্বে জনগণ তাওহীদের পতাকা তুলে নেয়, তখন সেই মুনাফেক বাদশাহ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এটা ছিল বিপ্লবের প্রথম বিজয়—ভেতরের মুনাফেক উৎখাত।
(২) দ্বিতীয় লড়াই: সুন্নী নামধারী মুনাফেক—সাদ্দাম হোসেনের চাপিয়ে দেওয়া উপসাগরীয় যুদ্ধ৷ শাহের পতনের পর শত্রু বদলাল, কিন্তু প্রকৃতি বদলাল না। এবার সামনে এল সুন্নী নামধারী মুনাফেক—ইরাকের সাদ্দাম হোসেন। তার পরিচয়ে অঙ্কিত ছিল— ইসলামি শব্দচয়ন, আরবি ভাষার দোহাই ও উম্মাহর কথা বলা
কিন্তু বাস্তবে সেও ছিল— আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডারের ভাড়াটে সৈনিক, জায়োনিষ্টদের শয়তানী বস্তাপচা আদর্শের দালাল ধারক ও বাহক৷ সে ছিল ইরানী বিপ্লব ধ্বংসের নিযুক্ত ঘাতক, আট বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর কী হলো? কোরআন যেমন বলেছে— “নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের ও মুনাফেকদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেন।”
(সূরা আনফাল: ৩০ থেকে ভাবার্থ) সাদ্দাম হেরে গেল। ইরান বিপ্লব ভাঙেনি ও ইরানী বিপ্লব ভেঙে পড়েনি। বরং শহীদের রক্তে বিপ্লব আরও পোক্ত হয়েছে।
(৩) শিক্ষা একটাই: মুনাফেক চেনা মানেই বিজয়ের অর্ধেক রাজপথে উপনিত হয়েছিল ইরানী বিপ্লব৷ এর মধ্যেই ইরানী বিপ্লব শিখে গেছে— শিয়া নাম থাকলেই কেউ হকপন্থী হয় না, সুন্নী পরিচয় থাকলেই কেউ উম্মাহর বন্ধু হয় না৷ ইসলামবিরোধিতা কখনো সিংহাসনে, কখনো সেনাবাহিনীতে, কখনো গণমাধ্যমে লুকিয়ে থাকে ঘাপটি মেরে৷
এ প্রসঙ্গে কোরআনের ঘোষণা পরিষ্কার—
“হে মুমিনগণ! কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করো।” (সূরা তাওবা: ৭৩) এই আয়াত শুধু সামরিক যুদ্ধ নয়, আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের নির্দেশ।
(৪) তাহলে আমেরিকা কিভাবে হারাবে ইরানকে?
উত্তর সোজা—পারবে না। কারণ— ইরান যখন মুনাফেক চিনতে শিখেছে, তখন বিপ্লব ব্যক্তি নয়, আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে পড়েছে৷ শহীদের সংস্কৃতি ভয়কে হত্যা করেছে৷ ইরানী বিপ্লব কোরআনকে সংবিধানের ভিত্তি বানিয়েছে৷ কোরআনের শেষ কথা যেন আজকের বাস্তবতা— “তারা আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করবেন—যদিও কাফেররা অপছন্দ করে।” (সূরা সফ: ৮)
যে বিপ্লব শাহের মতো শিয়া-মুনাফেককে উৎখাত করেছে, যে বিপ্লব সাদ্দামের মতো সুন্নী-মুনাফেককে পরাজিত করেছে, — সে বিপ্লবকে কোনো আমেরিকা, কোনো জায়নবাদী শক্তি, কোনো কাফের পরাশক্তি ধ্বংস করতে পারবে না। কারণ এই বিপ্লবের রক্ষাকবচ— তাওহীদ, শহাদাত এবং কোরআনের ওয়াদা।
আপনার কমেন্ট